Home Blog

নরসিংদী রেলস্টেশনে স্বল্প পোশাক পরে প্রতিবাদ

নরসিংদী রেলস্টেশনে পোশাকের কারণে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় বিভিন্ন পোশাক পরে স্টেশনে ঘুরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ২০ নারী-পুরুষ। শুক্রবার সকাল সড়ে ৮টার দিকে ঢাকা থেকে একটি ট্রেনে করে নরসিংদী স্টেশনে নামেন তারা।
এ যাত্রার নাম তারা দিয়েছেন ‘অহিংস অগ্নিযাত্রা’। অগ্নি ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে তারা যুক্ত।

তাদের ভাষ্য, বুধবার (১৮ মে) ঢাকা থেকে নরসিংদী বেড়াতে যাওয়া এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রেলস্টেশনে যে আক্রমণ ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এখানে এসেছেন তারা। এটিকে তারা প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন। তাদের এ দলে ছিলেন তৃষিয়া, সুরভী, এ্যানি, আনোয়ার, অর্ণব, নুভা, মম, অপরাজিতা, সামিহা, সানজানা, স্মিতা, লক্ষ্মী, অন্তরা, মিশু, প্রমি, জিসা, নিশা, বিজু, ইফফাত, নীল।
তারা নিজেদের নারীবাদী, শিল্পী, সংগঠক, নাট্যকর্মী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, আলোকচিত্রী, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, প্রকৌশলী এসব পরিচয় উল্লেখ করেন।

এদের দল নেতা ও অগ্নি ফাউন্ডেশনের সভাপতি তৃষিয়া নাশতারান বলেন, নরসিংদী স্টেশনে একজন নারী পোশাকের কারণে কুৎসিত আক্রমণ ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। আমরা তার পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমরা ২০ জন গিয়েছিলাম নরসিংদী স্টেশনে। আমরা জায়গাটা এবং সেখানকার মানুষগুলোকে দেখতে গেছি, তাদের সঙ্গ মানবিক যোগাযোগ স্থাপন করতে গেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণভাবে জনপরিসরে শরীর ও পোশাকের স্বাধীনতার জায়গা রিক্লেইম করা। আমাদের বৈচিত্র্যময় শারীরিক উপস্থিতিই আমাদের বক্তব্য।

রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, ট্রেন থেকে নামার পরপরই দলটি নানা বয়সী অপেক্ষমাণ যাত্রী ও ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের সঙ্গে বুধবারের ঘটনা নিয়ে কথা বলেন। পরে তারা কয়েকটি উপদলে ভাগ হয়ে স্টেশনের নানা প্রান্তে ঘোরেন। এরপর স্টেশন মাস্টার এ টি এম মুছার সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। এর আগে রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গেও ওই দিনের ঘটনা নিয়ে কথা বলেন দলটির সদস্যরা।

নরসিংদী রেলস্টেশনের মাস্টার এ টি এম মুছা বলেন, তরুণ-তরুণীদের দলটি সকালে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে নরসিংদী স্টেশনে এসেছেন। তারা স্টেশন ঘুরে দেখেছেন এবং স্টেশনের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা আমার কাছে আসলে ওই দিনের বিস্তারিত ঘটনা জানিয়েছি। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্টেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা তুলে ধরেছি। তারা তরুণী শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলেন।

জানা যায়, গত বুধবার (১৮ মে) সকালে নরসিংদী রেল স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢাকাগামী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন দুই তরুণ ও এক তরুণী। মেয়েটির পরনে ছিল জিনস প্যান্ট ও টপস। তা দেখে স্টেশনে অবস্থানরত এক নারী প্রথমে ওই তরুণীকে আঘাত করেন ও পরে আরো কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলার চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগী ওই তরুণী দৌড়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে আশ্রয় নিয়ে তাকে বাঁচানোর অনুরোধ করেন। পরে স্টেশন মাস্টারের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের ঢাকাগামী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়া হয়।

তরুণীকে হেনস্তা ও মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে টনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলে ঘটনার দুদিন পর শুক্রবার রাতে নরসিংদী শহরের ইউএমসি জুট মিলের সামনে থেকে ইসমাইল মিয়া নামে এক যুবককে আটক করে নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে রাতেই তাকে রেলওয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার বিকেলে নরসিংদীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ সিদ্দিকীর আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান এবং এ ঘটনার তদন্ত করে মামলার নির্দেশ দেন।
পরে ওই রাতেই নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল জাহেদী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ও ৩০ ধারায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে এক নারীসহ দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরো এক নারী ও ১০ পুরুষকে আসামি করা হয়।
ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের আসামি করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে নরসিংদীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ সিদ্দিকীর আদালত ইসমাইলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সুদের জন্য বেচে দেওয়া সেই শিশু মায়ের কোলে, মহাজন রিমান্ডে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলায় সুদের টাকার জন্য বেচে দেওয়া সেই শিশু মায়ের কোলে ফিরেছে। এ ঘটনায় সুদের কারবারি লাকী বেগমকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
আজ সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ মোহসেনের আদালত লাকী বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে আজ সকালে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর এলাকা থেকে লাকী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রোববার মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থেকে বিক্রি করে দেওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে ফতুল্লা থানা–পুলিশ। আজ তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়।
এ ঘটনায় গতকাল শিশুটির মা রানী বেগম বাদী হয়ে মানব পাচার আইনে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় সুদের মহাজন লাকী বেগম, তাঁর স্বামী হযরত আলী ও শিশুটিকে কিনে নেওয়া নারী রানু বেগমকে আসামি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) নাজমুল হাসান বলেন, লাকী বেগমের কাছ থেকে রানী বেগমের স্বামী হযরত আলী কিছু টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণের টাকা শোধ করতে রানী বেগমকে লাকীর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এর মধ্যে গত বছর রানী সন্তান প্রসব করলে সুদের টাকার জন্য লাকী বেগম রানীকে না জানিয়েই তাঁর এক দিন বয়সী সন্তানকে বিক্রি করে দেন। তার পর থেকে রানী বেগমকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়। এক বছর পর সুযোগ পেয়ে রানী ফতুল্লা মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ সুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে। আজ সকালে মামলার প্রধান আসামি লাকীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে ফতুল্লা থানায় গতকাল বিকেলে শিশুটিকে তার মা রীনা বেগমের কাছে তুলে দিতে গেলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিশুটিকে কিনে নেওয়া মা রানু বেগম বুক চাপড়ে বিলাপ করতে থাকেন। এক বছর ধরে সন্তানের স্নেহে বড় করা শিশুটিকে কোন উপায়ে তাঁর কাছে রাখা যাবে, তা জানতে দিগ্‌বিদিক ছুটতে থাকেন। নিজের সন্তানকে কাছে ফিরে পেয়ে রানীও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রানু বেগম প্রথম আলোকে বলেন, এক মেয়ে ও এক ছেলের মা তিনি। তার ১০ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। বেশ কয়েক বছর ধরে একটি সন্তান দত্তক নিতে চাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে করোনা মহামারির সময় জানতে পারেন অভাবের কারণে একটি ছেলেশিশুকে বিক্রি করে দেওয়া হবে। তাৎক্ষণিক ৭৫ হাজার টাকায় শিশুটিকে কিনে নেন রানু। নাম রাখেন মো. ইউসুফ। গতকাল রাতে হঠাৎ তাঁর বাড়িতে পুলিশ হাজির হলে জানতে পারেন শিশুটিকে চুরি করে এনে বিক্রি করা হয়েছিল। বলতে বলতে মাথা চেপে ধরে থানার মেঝেতে বসে পড়েন রানু।

ছেলেকে কাছে পেয়ে খুশি রানী। প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিশ্বাস ছিল একদিন ছেলেকে ফিরে পাবেন। জন্মের আগে ছেলের নাম ঠিক করেছিলেন ‘রানা’। এখন যেহেতু ইউসুফ নাম রাখা হয়েছে, সে নামেই ডাকবেন তিনি।

শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়ে যারা গর্ব করেছিল তার এখন কোথায়

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে থাকা শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ঋণ বাংলাদেশের পক্ষে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

রোববার (১৭ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।আবদুর রব বলেন, জনগণ যখন ১১ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকার অধিক ঋণে আবদ্ধ এবং পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে, তখন শ্রীলঙ্কাকে ২৫ কোটি ডলার ধার দেওয়া সরকারের দূরদর্শী কূটনীতির পরিচায়ক নয়।

শ্রীলঙ্কার ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১১৯ শতাংশ এবং ঋণ ফেরত দেওয়ার সামর্থ্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রব বলেন, শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়াত্বের দিকে ধাবমান দেশকে বাংলাদেশের পক্ষে ঋণ দিয়ে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। ঋণ ফেরতের শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হয়েছে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ ছাড়া সরকারের বাহবা কুড়ানোর অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তে রোহিঙ্গা ইস্যুও জাতিকে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে নিপতিত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

র‌্যাব ইজ আ ব্র্যান্ড নেম ফর পিস: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার পুরো দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকারের। এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো ইন্টারভেনশন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না কারো কাছ থেকে।
আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্টের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত মাসে শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী জেনেভায় গিয়েছিলেন, সেখানে আমরা ডকুমেন্ট হস্তান্তর করেছি। যে ক্ষেত্রেগুলোতে আমরা কাজ করছি, গোস উইদাউট সেইং—বাংলাদেশের মানুষের ভোট এবং ভাতের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে আমাদেরও কিছুটা খেদ আছে। কিন্তু সেটার জন্য রেসপন্সিবিলিটি আদৌ আমাদের কি না; এক হাতে তো তালি বাজে না! একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে গেলে যে আরও দল লাগে। ওগুলো তাদের ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে শেখ হাসিনার সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করেছে। মাত্র ৯১ বা ৯৬ থেকে বাংলাদেশে সত্যিকার সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু। এই যাত্রার স্বল্প সময়ে বাংলাদেশ যতদূর এসেছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করেছে এটার কোনো অ্যাপ্রিসিয়েশন এই রিপোর্টে নেই। অতীতে গণমাধ্যমকর্মীরা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করেছিলেন, বাংলাদেশ লেবার স্ট্যান্ডার্ড ইমপ্রুভমেন্ট কতটুকু হয়েছে। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ৯৮ ভাগ ইম্প্রুভ হয়েছে আরও ২ ভাগ বাকি। এই রিপোর্টে কোনো রিফ্লেকশান নেই, আমরা যে এত পথ পাড়ি দিয়ে এতদূর এসেছি।

যেসব সোর্স থেকে তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে, এই সোর্সগুলো দুর্বল। যারা অপারেট করেন, আমরা নিকট অতীতে দেখেছি যে, অল হ্যাড ভেরি ক্লিয়ার পলিটিক্যাল এজেন্ডা। বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব আছে যেসব রাষ্ট্রের তারা বাংলাদেশের নিকট অতীতের ইতিহাসটা ভালোভাবে জানবেন বলে আমরা আশা করি। এটা শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের জন্য—বলেন তিনি।

শাহরিয়ার আলম আরও বলেন, আমাদের নিকট অতীত ভুলে গেলে চলবে না। আমরা মিডিয়াতে দেখেছি, খুবই সেনসিটিভ ইস্যুতে খুবই দায়িত্ববান মানুষ ফেসবুকে এসে লাইভ করছেন, দাবি করছেন, রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছে। টর্চার করা হয়েছে। এই কারণে যখন তাকে ধরা হলো, তখন তার পক্ষে আবার নেমে গেল। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার পুরো দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকারের। এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো ইন্টারভেনশন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না কারো কাছ থেকে।

র‌্যাব প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো বিবেচনা করার জন্য অতীতে বিভিন্ন দেশের সুপারিশে র‌্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রশিক্ষণে র‌্যাব সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়েছে। আমরা খুবই অল্প সময়ে; যদিও শেষ নয় এই যুদ্ধ, আমরা অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিতে জঙ্গিবাদকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি এবং মোটামুটি বলা যায় মূল উৎপাটন করতে পেরেছি। বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রগুলো এ ধরনের সমস্যায় যে কোনো সময় পড়তে পারে। কারণ যে অঞ্চলে আমরা বসবাস করি, এ অঞ্চলের ইতিহাস ভালো না। এ অঞ্চলে বর্তমানও অনেক দেশে ভালো নয় এবং নিকট ভবিষ্যতও ভালো মনে হচ্ছে না। সেই জায়গায় বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে যারা দেখতে চান একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র যেখানে মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে, যেখানে সবার মতামত দেওয়ার মতো পরিবেশ অব্যাহত থাকবে এই কাজগুলো করতে গেলে আমাদের জাতির গর্বের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনগুলোর সঙ্গে কাজ করতে হবে।

শক্তিশালী করার পরিকল্পনা আগে ছিল, প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, পয়সাও দিয়েছেন, এখন কোনো কারণে দিচ্ছেন না কিন্তু প্লিজ ডু নট ট্রাই মেলাইন দিস ইনস্টিটিউশন দ্যাট উই রিলাই আপঅন হেভিলি। গ্রামে-গঞ্জে যাবেন, র‌্যাব ইজ আ ব্র্যান্ড নেম ফর পিস। র‌্যাব ইজ আ ব্র্যান্ড নেম হোয়্যার ইউ গেট জাস্টিস। র‌্যাব ইজ আ ব্র্যান্ড নেম ফর অ্যান্টি টেরোরিজম এক্টিভিটিস। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা যে কাজগুলো করেছেন, সেখানে যে ব্যত্যয়গুলো হয়েছে সেই ব্যত্যয়গুলো নিয়েও আমরা কিন্তু এখন উই আর এনগেইজড, উই আর ওপেন। আমরা এগুলো সুরাহারও পথ খুঁজছি। ফোর্স অপারেট যারা আছেন তারা বাকিটুকু টেকনিক্যাল বিষয় যেগুলো আছে সেগুলো আমাদের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় না; আমি নিশ্চিত, তারা সেগুলো রিভিউ করছেন বা করবেন। আমাদের এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়ার কোনো অপচেষ্টা আমরা ভালোভাবে নিতে পারবো না, বলেন শাহরিয়ার।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝুঁকির প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত যে কোনো সপ্তাহের যদি হিসাব নেন, গান রানিং-ড্রাগ ট্রফিকিং বেড়েছে। প্রতি নিয়ত তারা নিজেদের অন্তঃদ্বন্দ্বে নিহত হচ্ছেন। মুহিব উল্লাহ মতো একজন মিয়ানমারের নাগরিক তার জনগোষ্ঠীকে বোঝাতে ব্যস্ত ছিলেন যে, ‘আমাদের ফিরে যাওয়া উচিত’। আমরা ধরে নিচ্ছি, ফিরে যাবে না এ রকম একটি গ্রুপের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল; তাকে হত্যা করা হলো। সেখানে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কতটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়! এ রকম একাধিক রোহিঙ্গা নেতা আছেন যাদের আমাদের পুলিশ-র‌্যাবের সদস্যরা সেফটি-সিকিউরিটি দিয়ে থাকেন। বডি গার্ড হিসেবে কাজ করে থাকেন। আমি বলতে চাচ্ছি, উই আর অপারেটিং ইন আ ভেরি কমপ্লেক্স ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড ইন আ ভেরি কমপ্লেক্স এনভায়রনমেন্ট। যেখানে এক্সটার্নাল ফ্যাকটর ইনফ্লুয়েন্স করে আমাদের ইন্টারনাল অনেক ইস্যুতে অনেক সময়। এগুলো থেকে নিরাপদে রেখে রাষ্ট্রকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্টেডি একটি গ্রোথ ট্রাজেকটোরির মধ্যে দিয়ে আমরা উচ্চ আয়ের রাষ্ট্রে নিয়ে যেতে চাই ২০৪১ সালে। আমরা আশা করি, সব রাষ্ট্র বন্ধু হিসেবে সহযোগিতা করবে। তাদের কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

মানবাধিকার রিপোর্টের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এই রিপোর্টে কিছু উপাদান আছে যেটা আমরা-আপনারা ছোটবেলা থেকে যা শিখেছি, আমাদের ধর্ম যা শিখিয়েছে, আমাদের রাষ্ট্রের মানুষের যা প্রত্যাশা এর সরাসরি পরিপন্থী। রাষ্ট্র এই রিপোর্টটাকে রেখে দিয়েছে, অ্যাজ এ কান্ট্রি হু লাভস টু বি এনগেইজড উইথ আওয়ার ফ্রেন্ডস অ্যান্ড অ্যাজ এ রেসপন্সিবল নেশন; আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এটার প্রতিটি বিষয় নিয়ে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলবো। আমরা ব্যাখ্যা চাইবো। যেগুলো বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি পরিপন্থী সেগুলো প্রত্যাহার করতে বলা হবে। কারণ এতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা অন্যান্য ক্ষেত্রে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।

হিজাব বিতর্ক: আমোদিনী পালের মামলায় কারাগারে প্রধান শিক্ষক

নওগাঁয় মহাদেবপুরে হিজাব নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির অভিযোগে দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পালের দায়ের করা মামলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত বর্মণকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার নওগাঁর আমলী আদালত-৩ (মহাদেবপুর) এ হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারকে মো. তাইজুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ নিয়ে এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে হিজাব বিতর্কের ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির মামলায় স্থানীয় দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে কিউ এম সাঈদ টিটু (৫০) মহাদেবপুর দর্পণের পরিচালক এবং কাজী সামসুজ্জামান মিলন (৩৮) একই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মহাদেবপুর শহরের নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক কিউ এম সাঈদ টিটু ও সামসুজ্জামান মিলন
সম্প্রতি হিজাব পরায় দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পাল শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন বলে অভিযোগ তুলে ওই বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই হামলার ভিডিও ভাইরাল হয়।

এদিকে হিজাব বিতর্কে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৭টি সুনির্দিষ্ট কারণ ও সুপারিশ উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন হিজাব নয়; নির্ধারিত স্কুল ড্রেস না পরার কারণেই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আমোদিনী পাল।

নওগাঁর মহাদেবপুরের দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়
একই দিনে বদিউল আলম নামে আরেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধর করেছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত শুধু শিক্ষিকা আমোদিনী পালকে শোকজ করেন। এ ঘটনা তদন্ত কমিটির কাছে উদ্দেশ্যমূলক মনে হয়েছে।

এছাড়া শুধু আমোদিনী পালকে শোকজ করায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। একইসঙ্গে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের প্রহার করায় আমোদিনী পাল ও বদিউল আলমের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত।

১৬ বছর পর জানা গেলো আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়টি ভুয়া

তোমরা গরিব ঘরের মুক্তিযোদ্ধা, বড়লোকদের ভিড়ে একদিন তোমাদের নাম থাকবে না। যুদ্ধের ট্রেনিংয়ের সময় এক ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা কথাটি বলেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমানকে। সেনা কর্মকর্তার কথাটি যে আক্ষরিক অর্থেই নিজের জীবনে ফলে যাবে, তা ভাবেননি রণাঙ্গনের এই বীর যোদ্ধা। নামের সাথে মিল থাকায় তার লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ব্যবহার করে ২০০৫ সালে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু। গত বছর আদমদিঘি উপজেলার তালিকা যাচাই করে বিষয়টি টের পান মুক্তিযোদ্ধা মজিবর।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবরের অভিযোগের পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে শুনানির আয়োজন করে। এতে অংশ নেয়া তিন সাক্ষীর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধা মজিবর শুনানিতে তার সপক্ষে দলিলাদি হাজির করলেও, অভিযুক্ত মজনু কোনো দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণলায়ের ওয়েবসাইট বলছে, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৭৮তম সভায় আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর রহমান মজনুর নামে থাকা মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল করা হয়েছে। মাস ছয়েক আগে বিষয়টি নিয়ে প্রথম নিজের ফেইসবুক পেইজ থেকে লাইভ করেন শহর আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা আবদুল মান্নান আকন্দ। তিনি বলেছেন, গেজেট বাতিলের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, জালিয়াতি করেই মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন মজিবর রহমান মজনু। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম মন্টু বলেন, এ ঘটনা নিয়ে বিব্রত আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারাও।

মজনু একই সাথে শেরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তার এলাকার মুক্তিযোদ্ধারাও বলছেন, তার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো তথ্য জানা নেই কারো। বগুড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার তোজাম্মেল হক জানালেন, সে ভারতও যায়নি, যুদ্ধও করেনি, বরং যুদ্ধের সময় সে কুখ্যাত রাজাকার মান্নান বিশ্বাসের বাড়িতে থেকেছে। স্থানীয় আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম পান্না বলছেন, মজনুর বিরুদ্ধে শান্তি কমিটির নেতার মেয়েকে বিয়ে করে চিহ্নিত রাজাকারদের দলীয় পদ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে অভিযুক্ত মজিবর রহমান মজনু বলেন, গেজেট বাতিলের আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাননি তিনি। বরং এ নিয়ে আপিল এবং হাইকোর্টে রিট করবেন বলেও জানালেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের এক গেজেট মূলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় বগুড়ার শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মজনুর নাম।

‘আমার স্বামী রবিউল ইসলামকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে’

0

স্বামীকে হারিয়ে প্রায় পাগলপ্রায় নিহত রবিউল ইসলামের স্ত্রী মনিরা বেগম। তার কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। স্বজনরা দেখতে গেলেই তাদের গলা জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠছেন তিনি।মনিরা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুলিশের কারণে আমি বিধবা হয়েছি, আর আমার সন্তান হয়েছে অনাথ। আমরা এখন কী নিয়ে বাঁচব, কীভাবে বাঁচব।’
মনিরা বেগম অভিযোগ করেন, ‘আমার স্বামী রবিউল ইসলামকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমার স্বামী ছিলেন নিরপরাধ। পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করায় তার এই পরিণতি হয়েছে।’

তিনি বলেন,’আমার ৮ মাস বয়সের মেয়ে রোজমনি আখতার তার বাবার আদর থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত হলো। আমার স্বামী ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার কাঠের ব্যবসার আয়ে সংসার ভালোভাবে চলছিল। এখনতো আমরা নিরুপায় হয়ে গেলাম। আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল।’

‘পুলিশ কর্মকর্তা এসআই হালিমুর রহমানসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই,’ বলেন তিনি।এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে নিহত রবিউল ইসলামের ময়নাতদন্ত করা হয়। সন্ধ্যায় তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। শুক্রবার রাতে বাড়ির পাশে দাফন করা হয় রবিউলকে।

গত বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজীর চওড়া গ্রামে বৈশাখী মেলা থেকে রবিউলকে আটক করে পুলিশ। এ সময় রবিউল নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করেন। পরে তাকে লালমনিরহাট সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর এসআই হালিমুর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই রাতে রবিউলকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের এসআই হালিমুর রহমানকে শুক্রবার বিকেলে থানা থেকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
নিহত রবিউল ইসলাম লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজীর চওড়া গ্রামের দুলাল খান ও সাফিয়া বেগমের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের ভাই সোহাগ খান শনিবার দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি। পরিবারের সদস্যরা ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে আজ রাতে অথবা আগামীকাল সকালে মামলা দায়ের করা হবে।’

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সামিরা হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এখানে এক্সপার্ট নেই। এ কারণে মরদেহের ভিসেরা সংগ্রহ করে শনিবার সকালে ঢাকার মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে। ১ মাসের মধ্যেই ভিসেরা রিপোর্ট পেয়ে যাব। তখন জানতে পারব রবিউল ইসলামের মৃত্যু কী কারণে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাব। যেহেতু এটি আলোচিত বিষয় তাই আগে থেকে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শাহা আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রবিউল ইসলামের মৃত্যু ঘটনায় থানায় একটি ইউডি (আনন্যাচারাল ডেথ) মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে এখনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ দিলে পুলিশ অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে তা আমলে নেবে।’

‘আজ মানুষ যত ভালো আছে, এত ভালো কি কোনো দিন ছিল?’

শেখ হাসিনার আমল ছাড়া অন্য কারো আমলে বাংলাদেশ এত ভালো ছিল না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, ৭৫ পরবর্তীকালে শেখ হাসিনার আমল ছাড়া অন্য কারো আমলে বাংলাদেশ এত ভালো ছিল না। শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ বেটার দ্যান বিফোর।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অনেক সরকার এসেছে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর। জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করেছে। ওয়াদা করেছে, ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্রের মুখোশ পরা বর্ণচোরা।
আজ শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের ভুল-ত্রুটি আছে। আমরা দেশ পরিচালনা করি, ভুল-ত্রুটি আমাদের থাকতেই পারে। তবে আমরা দেশটাকে যত ভালো চালিয়েছি এবং চালিয়ে যাচ্ছি, এ দেশকে যা দিয়েছি এবং দিয়ে যাচ্ছি তা অন্য কেউ বঙ্গবন্ধুর পর দিতে পারেনি। তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন করেছে। আর শেখ হাসিনা এ দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করার জন্য ক্ষমতায় আছেন এবং তিনি জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্যই অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন, বলেন কাদের।

তিনি আরও বলেন, একটু চিন্তা করে দেখেন বড় বড় কথা যারা বলে, চার দিকে আজ যা অবস্থা, বিশ্ব বাজারে যে সংকট, প্রবৃদ্ধির সংকট, জ্বালানি—এসবের জন্য সাংঘাতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে চলছে বিশ্ব। আমাদের প্রতিবেশী পাকিস্তানের অবস্থা দেখুন, শ্রীলঙ্কার অবস্থা দেখুন। তুলনা করে দেখুন। আজ বাংলাদেশের মানুষ যত ভালো আছে, এত ভালো কি কোনো দিন ছিল ৭৫ এর পর?
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল আমাদের গণতন্ত্রের ছবক দেন। এ পদ্মা সেতু হয়ে গেছে প্রায় বলতে হবে। অল্প দিনের মধ্যে উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, শতভাগ সততার সঙ্গে পদ্মা সেতুর কাজ করেছি। পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রজেক্টে আমরা কারো কাছ থেকে এক টাকা ঋণ নিইনি। কোনো বিদেশি ঋণ ছাড়াই আমরা নিজস্ব অর্থায়নে শেখ হাসিনার সাহসের সোনালি ফসল পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করেছি। আমরা ঋণ খেলাপি নই। বাংলাদেশে ৭৫ পরবর্তীকালে সব সরকারই ঋণ খেলাপি আওয়ামী লীগ ছাড়া। আওয়ামী লীগ যে খাতে এনেছে, ঋণের কিস্তি যথা সময়ে পরিশোধ করেছে। অন্যরা দেশকে ঋণগ্রস্ত করেছে। ঋণের টাকা পরিশোধ করেনি। ফখরুল সাহেব, আপনারা ছিলেন ঋণ খেলাপি।

এ দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক কাঠামো-প্রতিষ্ঠান বারবার ধ্বংস করেছে বিএনপি। তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সংবিধান, সেনা আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান, সব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়। আর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যায় মদদ দিয়ে…সেদিন যে দুঃসাহস খুনীরা করেছে, জিয়াউর রহমান সঙ্গে না থাকলে এ রকম বর্বর ঘটনা ১৫ আগস্ট হতে পারতো না। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে খুনীদের প্রশ্রয় দিয়ে, পুরস্কৃত করে জিয়াউর রহমান এ দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কর্ম সম্পর্কে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল তুলেছে, কর্ম সম্পর্কে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে—বলেন কাদের।

বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে কাদের বলেন, আপনি কী ধরনের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী? সংসদে আপনাদের কয়েকজন সংসদ সদস্য আছে। অবলীলায় কথা বলে। যা খুশি তা বলে। প্রধানমন্ত্রীসহ এই সরকারকে গালিগালাজ করে। বাইরে আপনারা করেন, ভেতরে আপনাদের সদস্যরা করে। তার জন্য কাউকে খেসারত দিতে হয়নি, কারো মুখ বন্ধ করেনি স্পিকার। আপনি নিজে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান না অথচ বিএনপির অন্য সদস্যরা সংসদের যান। আপনি সংসদ বর্জন করেছেন, এটা কোন গণতন্ত্র? গণতন্ত্রের নামে এই দ্বিচারিতা আপনি নিজেই তো করছেন। গণতন্ত্রের প্রতি তাহলে আপনার আস্থাটা কোথায়? অবৈধ ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দেওয়ার অভিপ্রায়ে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হ্যাঁ-না ভোটের আয়োজন করেন। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কার সৃষ্টি? বহুদলীয় গণতন্ত্র নাকি বহুদলীয় তামাসা?

‘আওয়ামী লীগ ছদ্মবেশী একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়’, বিএনপি মহাসচিবের এ ধরনের বক্তব্য শুনলে জনগণের হাসি পাওয়ার কথা। জনগণ দেখেছে, বিএনপি এক দিকে ভোটে আসে না। আবার নির্বাচিত হয়েও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে যান না। বিএনপি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে সোচ্চার। তাহলে কীভাবে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা হলো? বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে যা করেছিল তা ভুলে যায়নি বাংলাদেশের মানুষ। তাদের ছদ্মবেশী বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল বহুদলীয় তামাসা। আমরা সেই তামাসার গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা জনগণের শক্তিতে আস্থাবান, আমাদের শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সে রকম হবে। নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার করার জন্য দরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা। তখন সরকারের কোনো ভূমিকা থাকবে না। সরকার শুধু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন সহায়তা করবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন সব থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সরকারের অধীনে কিছুই থাকবে না। আমরা বিএনপিকে অনুরোধ করবো নির্বাচনে আসুন, বলেন কাদের।

তিনি আরও বলেন, আসলে শেষ পর্যন্ত গাধা ঘোলা করে পানি খায়। আপনারা আসবেন কিন্তু পানি ঘোলা করে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে লাভ নেই। বাংলাদেশ একটি ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশানের দিকে যাচ্ছে।

দুবাইতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার পেল বাংলাদেশের ওবাইদুল্লাহ

বিশ্ব পরিমন্ডলে মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নামটি বার বার উজ্জ্বল হয়ে হয়ে উঠে কোরআনে হাফেজদের কারণে। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি৷ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল হোলি কোরআন অ্যাওয়ার্ডে নিজের সেরাটা দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলাম ওবাইদুল্লাহ। আর এরইমধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত করেছেন এই কোরআনের হাফেজ।

২৫ তম হোলি কোরআন প্রতিযোগিতায় শতাধিক দেশকে পিছনে ফেলে সেরা দশের খেতাব অর্জন করেছেন তিনি। এ প্রতিযোগিতায় এবার প্রথম হয়েছেন আলজেরিয়ার প্রতিযোগী আবু বকর।

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) রাতে দুবাইয়ের কালচারাল অ্যান্ড সাইন্টিফিক অ্যাসোসিয়েশন হলরুমে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ মনসুর বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম। এরআগে তাওহিদুল সহ অন্যান্য প্রতিযোগিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপরাষ্ট্রপতি ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম। এসময় তিনি তাদের কন্ঠে কোরআন তেলওয়াত শোনেন এবং ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশকে শক্তিশালী অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে আয়োজক কমিটির সদস্য খালেদ আল জাহিদ বলেন, দুবাই কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিযোগী ১০ম স্থান অধিকার করায় বাংলাদেশের জনগনকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। বাংলাদেশের প্রতিযোগিরা বরাবরই এই প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করে আসছে বিধায় তাদেরকে এবং যারা বিজয়ী হয়েছেন সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তাওহিদুল ইসলামের শিক্ষক ও রাজধানীর মারকাজুল তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ ক্বারী নেছার আহমাদ আন নাছেরী বলেন, অন্যান্যদের চেয়ে তেলওয়াতের দিক দিয়ে বাংলাদেশের হাফেজরা এগিয়ে।

আ.লীগ সবার আগে হাত দিয়েছে বিচার বিভাগে

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিচার বিভাগ দলীয়করণের কারণে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।

আজ শুক্রবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে এক ইফতার মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশে একটা ছদ্মবেশী একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে জন্যই তারা একে একে সব স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে। সবার আগে তারা হাত দিয়েছে বিচার বিভাগে

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের যে রায়গুলো হয়, সেগুলো হয়ে যাচ্ছে একেবারে জনগণের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছে না।’
এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার কথা উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, জোবায়দা রহমান, যিনি রাজনীতির সঙ্গে কখনোই সম্পৃক্ত ছিলেন না, তাঁর বিরুদ্ধেও দুদক একটা মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সেই মামলার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা অত্যন্ত বেআইনি কাজ। এটা শুধু বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নয়, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’
সারা দেশে একটা গণতন্ত্রহীন অবস্থা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার অভিযোগ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে একটা অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তিন বছর আগে ১৮ কোটি মানুষের নয়নের মণি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাদের সঙ্গে ইফতার করেছেন। আজকে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাঁকে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে। আমাদের ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ছয় শতাধিক নেতা-কর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে, সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।’

এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে নেতা-কর্মীসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ইফতার অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এর আগে অনুষ্ঠানে দলের গুম ও খুনের শিকার হওয়া নেতাদের পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য দেন।

ইফতারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান; কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ, শাহিদা রফিক, তাহসিনা রশদীর, শামা ওবায়েদ, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী, আফরোজা আব্বাস, সদ্য কারামুক্ত ইশরাক হোসেন; গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু; নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না; গণ অধিকার পরিষদের রেজা কিবরিয়াসহ ২০–দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।