Monday, November 29, 2021
Homeচিকিৎসাহরেক রকম মাথাব্যথা ও তার চিকিৎসা

হরেক রকম মাথাব্যথা ও তার চিকিৎসা

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের নিত্যসঙ্গী মাথাব্যথা। এই মাথাব্যথার রয়েছে নানা কারণ আর রকমভেদ। বিভিন্ন ধরণের মাথাব্যথায় তাই উপশমের চেষ্টাও করতে হয় ভিন্ন উপায়ে।

দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা

আমাদের সবারই এই ধরণের মাথাব্যথার সাথে পরিচয় আছে। পুরো মাথার চারপাশে শক্ত করে বেঁধে রাখার মত ব্যথা হয় এ সময়ে। কাজের চাপ, বিশ্রামের অভাব কোনকিছু নিয়ে দীর্ঘসময় চিন্তিত থাকলে এমনকি ঘুমের সময় সঠিকভাবে মাথার অবস্থানের হেরফেরের জন্য এ ধরণের ব্যথা হতে পারে।

চিকিৎসা

সাধারণত প্রচলিত ব্যথার ওষুধ এর চিকিৎসায় গ্রহণ করা যায়। সমস্যা দীর্ঘকালীন হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

সাইনাসজনিত মাথাব্যথা

এ ধরণের মাথাব্যথায় কপাল, গালের হাড়ের দিকে ব্যথা থাকে এবং জ্বরবোধ হয়। সাইনাসজনিত প্রদাহ, সর্দিতে এই মাথাব্যথা হয়।

চিকিৎসা

অ্যান্টিহিস্টামিনজাতীয় ওষুধ এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

মাইগ্রেন

মাথাব্যথার মধ্যে মাইগ্রেনের ব্যথা অধিকতর তীব্র। শরীরের পরিপাক প্রক্রিয়া, মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালনে সমস্যা এমনকি জেনেটিক্যালিও এ সমস্যা হতে পারে।

চিকিৎসা

মাইগ্রেনের পুরোপুরি নিরাময়ের কোন চিকিৎসা এখনো নেই তবে কিছু ব্যায়াম, ওষুধ ব্যথা উপশমের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এসব ছাড়াও মাঝে মাঝে মাথার একপাশে প্রচন্ড রকমের মাথাব্যথা হয়, সাথে চোখ জ্বালা-পোড়া দেখা দেয়। এই ধরণের ব্যথা ১৫ মিনিট থেকে এক ঘন্টা সময় পর্যন্ত থাকে।

ক্লাস্টারঃ

এই ধরণের মাথা ব্যাথা হঠাৎ করে শুরু হয়ে বেশ তীব্র মাথায় পৌঁছায়। মাথার যেকোন এক সাইডে থেকে ব্যাথা শুরু হয়ে অনেক সময় দেখা যায় চোখের পেছনের দিকেও হয়ে থাকে। এর স্থায়িত্ব ৫-১০ মিনিট থেকে শুরু করে ৩ ঘন্টা পর্যন্তও হতে পারে। দেখা যায়, এই ধরণের মাথা ব্যাথায় নাক, চোখ বা মাথার যেখানে যেখানে ব্যাথা হয় সেখানে লাল হয়ে যায়। তীব্র আলো, ঘ্রাণ বা গন্ধ এবং শব্দে এই ধরণের মাথা ব্যাথা বেড়ে যায়।

চিকিৎসাঃ

মাইগ্রেনের চিকিৎসা এবং ক্লাস্টারের চিকিৎসা একই। তবে বেশি সিরিয়াস ব্যাথা হলে ডাক্তার ভেরাপামিল জাতীয় ওষুধ খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সেকেন্ডারি মাথা ব্যাথাঃ

এই ধরণের মাথা ব্যাথার কারণ হিসেবে দেখা যায় ব্রেইনের কোন ধরণের সমস্যা যেমন- টিউমার, সিজার, ব্রেইনের রক্তনালীতে কোন ইনফেকশন। এইসব কারণে এই ধরণের মাথা ব্যাথা শুরু হয়।

চিকিৎসাঃ

এই ধরণের মাথা ব্যাথায় দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ যত দেরি করবেন তত ক্ষতির হার বাড়ার সম্ভাবনা বেশি।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments